পরিণতি-পথ চিনে – শাহাদাতুর রহমান সোহেল walking

পরিণতি-পথ চিনে
– শাহাদাতুর রহমান সোহেল

অনেকেই পথে হাঁটে, কেউ কেউ পথ চিনে,
অনেকেই রাতে হাঁটে, আর কেউ হাঁটে দিনে,
কারো কারো অবিরাম রাত-দিন হাঁটাহাঁটি
তবু কেন ধ্বসে যায় জীবনের সব ঘাঁটি?
একা একা পথে হাঁটা নিরাপদ নয় জানি, 
সন্ত্রাসী সময়ের বিপদের কানাকানি, 
দশে মিলে হাঁটো যদি সেখানেও কোন্দল;
পথ-ঘাট ডুবে যায়, সব খানে নামে ঢল
হাঁটা ছেড়ে বসে যাই তাই কিবা হয় বলো?
পরিণতি-পথ চিনে চলো, চলো, পথ চলো ।

নোট: কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। প্রতি লাইনে ১৬ মাত্রা। 

Comments on Social Media and Answers:
১) পথ চিনে চলো— আমাদের আসলেই পথ চিনে চলা উচিৎ। সতর্ক থাকা উচিৎ। আবার কখনো ভাবি, অচেনা পথে পা বাড়ালেও মন্দ হয় না। নতুন কিছু অভিজ্ঞতাও জীবনে দরকার বটে।
- কবি সা দি য়া (নন্দিনী)

জবাব: 
“অনেকেই পথে হাঁটে, কেউ কেউ পথ চিনে” – মানুষ পথ না চিনেও হাঁটে, যেমন: ১) অনেকে কবিতা লেখে কবিতা লেখার নিয়ম না জেনেই। ২) অনেকে চাকরীতে ঢুকে সে চাকরী সম্পর্কে না জেনেই। ৩) অসংখ্য বিয়ে হয় সংসার জীবন সম্পর্কে কোন পড়াশোনা বা জ্ঞান অর্জন ছাড়াই। এসব বিরাট ক্ষতিকর।


২) জীবনের এই বন্ধুর পথে সঠিক ‘গাইড’ বা সঙ্গী ছাড়া কি এই ‘পরিণতি-পথ’ চেনা সম্ভব? নাকি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই সেই চেনাটা গড়ে ওঠে?
 কবি প্রিথুলা জামান

জবাব:
জীবনের পরিণতি-পথ চেনা একক কোনো সূত্রে হয় না—এটা একটা balanced ecosystem। শুধু গাইড বা সঙ্গী থাকলেই হবে না, আবার শুধু নিজের অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করাও ঝুঁকিপূর্ণ। গাইড আমাদের ভুল কমায়, শর্টকাট না হলেও “right direction” দেখায়। আর নিজের অভিজ্ঞতা সেই পথকে বাস্তব করে, গভীরতা দেয়। সোজা ভাষায়—👉 গাইড পথ দেখায়, 👉 অভিজ্ঞতা পথ চিনিয়ে দেয়। দুটোর synergy ছাড়া “পরিণতি-পথ” পুরোপুরি clear হয় না।


৩)
চলো পথে চিনে লক্ষ্য,
হৃদয়ে রাখো অটল ঐক্য।
বিপদ কাটুক সাহসের তেজে,
জীবন সাজুক বিজয়ের সাজে।
- কবি সাইয়েদ ফারাহ (Syed Farah)

জবাব:
আপনার পঙ্‌ক্তিতে সাহসের যে দীপ্তি—
সেই আলোতেই তো পথ চিনে নেয় নিজের পরিণতি।

০৪)
আপনার চিন্তাধারার সাথে পরিচিত হলাম। ধন্যবাদ।
অসীম রহমান

জবাব:
ধন্যবাদ। “পরিণতি-পথ চিনে চলো, চলো, পথ চলো” – এটাই এই কবিতার মূল চিন্তাধারা। আরো বিষয় আছে। “পরিণতি-পথ চিনে চলো, চলো, পথ চলো” – এখানে ২টি বিষয়- অর্থাৎ কি চাই (পরিণতি) ও কিভাবে চাই (পথ চিনে)। এই ২টা বিষয় পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন। যেমন: এখানে অনেকে কবিতা লেখে। আমরা জানি না- এথেকে কি অর্জন করতে চাই এবং কিভাবে সেটা পাব। ২টি বিষয়ই এখানে প্রযোজন। জীবনের অন্য ক্ষেত্রেও তদ্রুপ। এমনকি দেশ ও জাতির জন্য আমরা রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম করি সেক্ষেত্রেও এ ২টি বিষয়ে আমাদের ঘাটতি আছে। ফলে আমরা প্রার্থিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারি না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

No comments:

Post a Comment