গাছ হাঁটে – শাহাদাতুর রহমান সোহেল Walking Tree

গাছ হাঁটে।
– শাহাদাতুর রহমান সোহেল

কখনো শিকড় গড়িয়ে জলাভূমির বুক চিরে,
কখনো ঝুরি ফেলে বটের মতো
আকাশ থেকে নেমে এসে মাটির বুকে পা রাখে।
লতা জড়িয়ে ধীরে ধীরে সরতে থাকে,
যেন অদৃশ্য কোনো পায়ের ছাপ—
পাতার নীচে চাপা থাকে সময়ের শব্দ।

বাতাসের ঘূর্ণিতে ঝরা পাতার নৃত্য দেখে
শৈশবে বলেছিলাম—"দেখ, গাছ নাচছে!"
বন্ধুরা না বুঝেই হেসেছিল—
তাদেরকে কখনো বলিনি, 
আমি গাছকে হাঁটতে দেখি
আর শুনতে পাই গাছের গান !!

জ্ঞানের প্রথম উম্মোচনে
বাবার সাথে বাস ভ্রমণে দূরের যাত্রায়
জানালার পাশে বসে দেখলাম-
গাছ, শস্যক্ষেত সব পিছনে দৌঁড়াচ্ছে!!!
জোরে বললাম- গাছ পিছনে দৌঁড়ায় কেন?
বাবা মুচকি হাসলেন, অন্য যাত্রীরাও হাসলো
বালকের জেদ থাকলো আজীবন। 

রিক্সাভ্যানে গাছেরা ছুটে যায় শহরের পথে,
মনে হয় তারা দৌড়াচ্ছে—
বাগান থেকে পালিয়ে এসে
কংক্রিটের ভিড়ে ঢুকে পড়তে চায়।

এক বালিকার খোপায় লুকিয়ে থাকে
একটি ছোট্ট ডাল, একটি ফুল—
শহর তখন দেখেনি,
গাছ আসলে মানুষ হয়ে হাঁটতে পারে।

মানুষের গায়ে যে কাপড়,
তার ভেতরেও লুকিয়ে থাকে গাছের স্মৃতি।
তুলোর নরম স্পর্শে মাঠের রোদ,
পাটের খসখসে বুননে নদীর গন্ধ—
সবই যেন শরীরের সাথে হেঁটে বেড়ায়।

সমুদ্রের তলদেশে সি স্লাগ আলো খায়,
শৈবাল খাবার নেয় সূর্যের রঙে—
প্রাণী থেকে উদ্ভিদ হয়ে হেঁটে চলে,
আবার আমাজন বনে কোথাও
ওয়াকিং ট্রি পা ফেলছে ধীরে ধীরে।

প্রতিটি গাছ হাঁটে—
শিকড় নামিয়ে, ডাল ছড়িয়ে,
লতায়-পাতায়, ফুল-ফলের বিস্তারে,
নারীদের খোপায় লুকিয়ে,
অথবা অগণিত মানুষের পরিধেয় হয়ে।

এ শহরই আসলে এক অদ্ভুত বাগান—
যেখানে গাছেরাও জানে,
দাঁড়িয়ে থাকা মানেই বেঁচে থাকা নয়,
হাঁটতে হয়, চলতে হয়,
স্বপ্নের দিকে, আলোর দিকে,
অদৃশ্য-দৃশ্যমান সবুজ বিপ্লবের পথে। 

Comments on Social Media:
সাধারণ চোখে গাছ স্থবির, কিন্তু আপনার কবির চোখে তারা ‘পরিব্রাজক’……………… চমৎকার ভাবনা
- কবি প্রিথুলা জামান

অসাধারণ সুন্দর কবিতা লিখেছো, সোহেল।।
নীলা 

দারুণ লিখেছেন
কবি আহকার নাঈম (Ahkar Nayem)

নোট: ১) Sea slug (সি স্লাগ) কী? সি স্লাগ হলো এক ধরনের সামুদ্রিক নরম দেহের প্রাণী, দেখতে অনেকটা শামুকের মতো কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খোলস (shell) থাকে না। এটি সমুদ্রে থাকে ধীরে ধীরে চলে (slug মানে ধীরগতির প্রাণী), শরীর নরম ও রঙিন হয়, দেখতে অনেক সময় ফুল বা পাতার মতো লাগে।  বিশেষ বৈশিষ্ট্য:  (যেটা একে আলাদা করে) – কিছু সি স্লাগ শৈবাল খেয়ে তার ক্লোরোফিল নিজের শরীরে রেখে দেয়, তারপর সূর্যের আলো থেকে শক্তি নিতে পারে  অর্থাৎ প্রাণী হয়েও আংশিকভাবে গাছের মতো আচরণ করে!  ২) আমাজনের ওয়াকিং ট্রি (Walking Tree): Socratea exorrhiza হলো আমাজন রেইনফরেস্টের এক অদ্ভুত গাছ, যার শিকড় মাটির ওপরে খুঁটির মতো ছড়িয়ে থাকে। নতুন শিকড় গজানো ও পুরোনো শিকড় শুকিয়ে যাওয়ার কারণে এটি ধীরে ধীরে স্থান বদলায় বলে মনে হয়—তাই একে “হাঁটা গাছ” বলা হয়।

No comments:

Post a Comment