সৌরজগতের বৃষ্টি - শাহাদাতুর রহমান সোহেল rains


সৌরজগতের বৃষ্টি
- শাহাদাতুর রহমান সোহেল

সূর্যের নিশ্বাসে গলে যায় সময়,
তার আলোয় ভেসে বেড়ায় ধূলিমেঘ,
বুধের গাত্রে ঘাম, কিন্তু বৃষ্টি নয়—
শুষ্ক তাপে দগ্ধ হয় নিঃশব্দ শূন্যতা।

চাঁদ নীরব, তার চোখে শ্বেত ধূলিকণা,
কোনো ফোঁটা ঝরে না সেখানে—
বৃষ্টি যেন কেবলই পৃথিবীর স্মৃতি,
যা সে ভুলে গেছে চিরতরে।

শুক্রের আকাশে তীব্র অ্যাসিডের ঘ্রাণ,
গন্ধক-মেঘে ঝরে দহন-বৃষ্টি—
কিন্তু তা মাটিতে পৌঁছায় না কখনো,
উত্তাপে পুড়ে হয় ধোঁয়াটে স্বপ্ন।

মঙ্গলের বুক রক্তাভ লাল,
তার তুষার জমে CO₂-এর ঘোরে,
ঠিক এক শীতল প্রেমের মতো—
যা ছোঁয়ার আগেই ওড়ে যায় বাষ্প হয়ে।

বৃহস্পতিতে ঘূর্ণি মেঘের মন্দ্র গর্জন,
ঝড়ের আকাশে জ্বলে বিদ্যুতের চাবুক,
সেখানে বৃষ্টি মানে গলিত হীরা,
পুড়ে তৈরি হয় আলোর কান্না।

শনির বলয়ে বাজে কাচের নূপুর,
ঝঞ্ঝায় ঝরে হিরের কণা,
যেন মহাকালের চূর্ণ হওয়া কোনো মুকুট,
যা কেউ ছুঁতে পারে না এ হাতে।

ইউরেনাস ও নেপচুন—
তিমির-নীল স্বপ্নের দেশ,
যেখানে তীব্র চাপের জঠরে জন্ম নেয় হীরা,
আলো ছাড়াই তারা দীপ্তমান,
শব্দহীন বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ে গভীরে।

আর টাইটানে—
মিথেনের নদী, ইথেনের হ্রদ,
নামছে ধীর বৃষ্টি, হিমশীতল, নিঃশব্দ,
এক অপার্থিব শব্দ তোলে—
“টপ... টপ...”
যেন মহাবিশ্ব নিজেই কাঁদছে,
অচেনা এক মোহে ভিজে।

শেষে সূর্য—
তার অনলে সব ফোঁটা বাষ্প হয়ে ওড়ে,
তবু প্রতিটি গ্রহই জানে,
বৃষ্টি মানেই ফিরে আসা—
হোক তা জল, হীরা, অ্যাসিড বা অশ্রু,
সব বৃষ্টিই একটিই ভাষায় বলে—
“আমি নিদারুণ কষ্টে আছি, তাই ঝরছি।”

পাঠ-সহায়িকা“সৌরজগতের বৃষ্টি” বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য ও পরাবাস্তব কল্পনার সমন্বয়ে রচিত একটি কোলাজধর্মী কবিতা। এখানে সৌরজগতের বিভিন্ন ধরনের বৃষ্টিপাতকে মানবীয় অনুভূতি, স্মৃতি, প্রেম, নিঃসঙ্গতা ও অস্তিত্ববোধের রূপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কবিতাটি পাঠের সময় বাস্তব জ্যোতির্বিজ্ঞান ও কাব্যিক কল্পনা—উভয় দৃষ্টিভঙ্গিকেই একসঙ্গে সক্রিয় রাখলে এর অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য ও তাৎপর্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

No comments:

Post a Comment