একটি হাইকু সিরিজ: পাহাড় চূড়া থেকে শূন্য চর - শাহাদাতুর রহমান সোহেল


একটি হাইকু সিরিজ:
পাহাড় চূড়া থেকে শূন্য চর
- শাহাদাতুর রহমান সোহেল

১)
পাহাড় চূড়া,
মেঘে ডানায় উড়ে,
নদীর ধারা।

২) 
বাতাসে পানি - 
মেঘেরা যায় দূরে;
তাকিয়ে রাণী।

৩)
গাছের ছায়া,
একাকী বসে দেখি - 
আকাশছোঁয়া।

৪)
খাঁচায় পাখী,
খাবারে ভরে আছে -
আদরে রাখি।

৫) 
গোধূলী ম্লান,
রবি ডুবছে দূরে -
কে গায় গান?

৬) 
চাঁদের আলো
মেঘে ঢাকছে ধীরে -
রাতের কালো।

৭)
ড্রাকুলা হাঁকে - 
পূর্ণিমার রাতে
নেকড়ে ডাকে।

৮)
নদীতে রাতে:
নদীর তীরে আলো,
লঞ্চে প্রাতে। 

৯)
রাত ফুরাক:
ঝিঁঝিঁ পোকারা ডাকে -
পাখীর ডাক।

১০) 
ভোরের আলো;
জোনাকী শেষ দেখা,
দূরের কালো।

১১)
নদীর পাশে:
উড়াল দিল বক
দূর আকাশে।

১২) 
বনের গাছ
মাটির বুক ছুঁয়ে -
রোদে উদাস।

১৩)
তোমার ছায়া,
ভাঙা পথের ধুলো -
অপার মায়া।

১৪) 
ঝরা পাতারা,
বাতাসে মিশে উড়ে,
ছন্নছাড়া।

১৫) 
সুরের ঘর:
সুরে কাঁপন তুলে
তোমার স্বর।

১৬) 
আলোর ঘর -
আঁধার নেমে আসে:
শূন্য চর।

১৭)
শূণ্যে ভরি
ভালো সকলে মিলে -
পূর্ণ করি। । 
 

হাইকু: একপ্রকার জাপানী কবিতা। এর বৈশিষ্টগুলো হলো: ১) হাইকু তিন লাইনের, ২) ১ম লাইন ৫মাত্রার, ২য় লাইন ৭ মাত্রার এবং ৩য় লাইন ৫ মাত্রার। বাংলা ভাষায় মাত্রাবৃত্ত ছন্দ উপযুক্ত। ৩) জাপানী ভাষায় অন্তমিল নেই। তবে বাংলা ভাষায় কিছু কবি ১ম ও ৩য় লাইনে অন্তমিল দিয়েছেন কবিতার সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য। অন্তমিল না হলেও চলে। ৪) প্রতি হাইকুতে নাম নেই ইত্যাদি।
    সনেটে যেমন সিরিজ লেখা যায়, তেমনি হাইকুতে সিরিজ লেখা যায়। একই হাইকু সিরিজে স্পষ্ট বা অস্পষ্ট বিষয়ের মিল থাকতে হবে। হাইকু যেমন মোট ১৭ মাত্রার তেমনি একটি সিরিজে ১৭টি হাইকু থাকতে পারে। তবে এটা করতেই হবে এমন নয়।  

No comments:

Post a Comment