
মাটির নিচে অনন্ত যুদ্ধ
— শাহাদাতুর রহমান সোহেল
— শাহাদাতুর রহমান সোহেল
মাটির নিচে যুদ্ধ চলে, শিকড়েরা ঘুমাতে পারে না,
পিঁপড়েদের রক্তে আঁকা হয় অন্ধকারের মানচিত্র।
দুই উপনিবেশ মুখোমুখি—দুই বিপরীত ঘ্রাণের মহাদেশ,
মাঝখানে এক ইঞ্চি মাটি, অথচ তার নিচে মৃত নক্ষত্রের ভিড়।
একটি পিঁপড়ে অন্যটির গলায় দাঁত বসাতেই
সময় তার ক্যালেন্ডার থেকে ছিঁড়ে ফেলে একটি ঋতু;
মৃত সৈনিকের পাশে জন্ম নেয় নতুন প্রজন্ম,
তার জন্মসনদে লেখা—যুদ্ধই তার প্রথম মাতৃভাষা।
কোনো সেনাপতি নেই, তবু লক্ষ পা এগিয়ে যায় মৃত্যুর দিকে,
ঘাসের ডগায় শিশির ঝোলে—উল্টো হয়ে থাকা সাদা গ্রহ।
মানুষ ওপরে সীমান্ত আঁকে, নিচে পিঁপড়েরা খোঁড়ে আয়না,
সেখানে প্রত্যেক শত্রুর মুখে নিজেরই অন্ধকার দেখা যায়।
একদিন মৃত পিঁপড়ে স্বপ্ন দেখে—পৃথিবী একটি বিশাল ঢিবি,
মানুষেরা তার ভেতর বন্দি, মাথায় অদৃশ্য রাজাদের আকাশ।
চাঁদ তখন যুদ্ধের মুদ্রা, নক্ষত্রেরা গোনে অনাথ ছায়া,
আর মাটির গভীরে শান্তি পা হারিয়ে ঘুরে বেড়ায়।
শেষ পর্যন্ত কে জেতে—যে মাটি দখল করে, নাকি মাটিতে মিশে যায়?
একটি পিঁপড়ে নীরবে দাঁড়ায়, তার চোখে ঘুমহীন মহাবিশ্ব।
তার পায়ের নিচে আরেকটি পিঁপড়ে জন্ম নেয়—
পুরোনো যুদ্ধের গর্ভে, নতুন অন্ধকারের মতো।
পাদটীকা: আর্জেন্টাইন পিঁপড়ের উপনিবেশগত সংঘাত অবলম্বনে রচিত পরাবাস্তব কবিতা। এখানে যুদ্ধ, জন্ম, মৃত্যু ও সীমান্তের চিত্রকল্প মানুষের অস্তিত্বসংকটের রূপক হয়ে উঠেছে।
No comments:
Post a Comment